নিজস্ব প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বাণিজ্য চুক্তি আগামীকাল সোমবার সই হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
শেখ বশিরউদ্দীন জানান, নতুন বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রপ্তানি বাজার সুসংহত করা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। শুরুতে বোয়িং ৪৭টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিলেও বর্তমান সরকার আপাতত ২৫টি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাল্টা শুল্ক কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে শুল্কহার শূন্যে নামিয়ে আনার দিকেই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, একসময় বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা আলোচনার মাধ্যমে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সামগ্রিক শুল্ক কমানো নয়, বরং আমাদের মূল রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টসে যেন শুল্ক শূন্যে নামানো যায়, সেই প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। সোমবারের চুক্তিতে শুল্ক কতটা কমবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।”
চুক্তির শর্তাবলি আগেভাগে প্রকাশ হওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যাদের সঙ্গে চুক্তির শর্ত সারা বিশ্বে প্রকাশ পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বাজার থাকলেও ভবিষ্যতে এটি আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে এবং সরকার সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কাজ করছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে এমন বড় বাণিজ্য চুক্তি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, নির্বাচনের পর যে সরকার দায়িত্ব নেবে, তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না রেখে অন্তর্বর্তী সরকার আগেই এই চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়।
তিনি জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পর এর বিস্তারিত শর্তাবলি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।