নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ আবারও ১১ দলে রূপ নিতে যাচ্ছে। জোটে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও জোট নেতাদের বক্তব্যে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিলে ১১ দলীয় জোটটি ১০ দলে নেমে আসে। এবার ইসলামী আন্দোলনের জায়গায় লেবার পার্টি যুক্ত হলে পুনরায় ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ গঠিত হবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। তিনি জানান, নিজে নির্বাচনে অংশ না নিলেও লেবার পার্টির ১৫ জন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসন সমঝোতা এখন আর বাস্তবসম্মত না হলেও রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনায় আছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’-এর সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ড. হামিদুর রহমান আযাদ শনিবার কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এক পথসভায় বলেন, জোটে আরও একটি দল যুক্ত হচ্ছে। তিনি জানান, সে কারণে জোটটি আবার ১১ দলে পরিণত হবে। যদিও বক্তৃতায় তিনি দলের নাম উল্লেখ করেননি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে—লেবার পার্টিই সেই নতুন জোট সঙ্গী।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জোট বড় হচ্ছে এবং অন্তত একটি দল যোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়ে যাওয়ায় এখন সরাসরি আসন সমঝোতা সম্ভব না হলেও ভিন্ন কৌশলে রাজনৈতিক সমন্বয় হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ইসলামপন্থি দলগুলোর ঐক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল নিয়ে প্রথমে একটি জোট গঠিত হয়। পরে আসন সমঝোতার লক্ষ্যে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হলে জোটটি ১১ দলে উন্নীত হয়। তবে শেষ মুহূর্তে আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধে ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ে।
এরপর থেকেই নতুন জোটসঙ্গী খোঁজার আলোচনা চলছিল। বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের দীর্ঘদিনের শরিক লেবার পার্টি প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ায় আগেই বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। সেই প্রেক্ষাপটে দলটি এখন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত, প্রতীক বরাদ্দ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। একই দিনে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
এই নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১০ (শিগগিরই ১১) দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’-এর মধ্যে।