June 27, 2026, 4:18 am

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-ভিসা ও মোবাইল অ্যাপ চালু

  • Update Time : Sunday, January 18, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মালদ্বীপে বসবাস ও কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে দেশটির ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহের এ বৈঠক সম্প্রতি মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রবাসীদের সুরক্ষা, ভিসা ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের সাম্প্রতিক ডিজিটাল উদ্যোগ সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করে।

ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল জানান, মালদ্বীপে ইতোমধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম ও একটি ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে ভিসার অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। নিকট ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভিসা ইস্যু করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেসব প্রবাসীর বৈধ ভিসা রয়েছে, নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তরিত হবে। নতুন ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে এলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পাওয়ায় তারা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়েন। তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের শোষণ ও প্রতারণা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

হাইকমিশনার ডলার সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু, ন্যায্য মজুরি কাঠামো নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় আনেন। একই সঙ্গে প্রতারণায় জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রাপ্ত বিভিন্ন অভিযোগ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

জবাবে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে প্রতারণায় জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মালদ্বীপের লেবার রিলেশন অথরিটি (এলআরএ)-তে অভিযোগ দাখিলের পরামর্শও দেন তিনি। উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল ও নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হন।

মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নতুন পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন লেটার প্রয়োজন হবে। এছাড়া কোনো প্রবাসীকে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। আইনানুগ বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে তিন সপ্তাহ সময় লাগে বলেও জানানো হয়।

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com