নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ২৫৩টি আসনে প্রার্থী সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রার্থী দেবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে এই ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসনে প্রার্থী দেবে।
তবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য এখনো আসন চূড়ান্ত হয়নি। একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়টিও এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। শুরুতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ জোটের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এবারের নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন। এটি কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, বরং দেশের অস্তিত্ব রক্ষা, জুলাই বিপ্লব সুরক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নির্বাচন। এই নির্বাচন সংস্কার ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এত ভিন্ন মতাদর্শের দল একসঙ্গে এত বড় জোট আগে কখনো গড়ে ওঠেনি। এই জোট জাতীয় ঐক্যের একটি দৃষ্টান্ত এবং একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে। ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র আওতায় প্রতিটি আসনে জোটের পক্ষ থেকে একজন অভিন্ন প্রার্থী থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাকি ৪৭টি আসন প্রসঙ্গে তাহের বলেন, কিছু আসনে এখনো সীমিত অস্পষ্টতা রয়েছে, তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই সব বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে যুক্ত হলে তাদের জন্য নির্ধারিত আসনগুলোর বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।