জেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিএনপির অভিযোগ, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা এলাকায় ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্কবিতর্ক এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা শহরে একটি মিছিল বের করেন। এ সময় বিএনপির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী রাতেই সদর হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় হাসপাতালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীরা জড়ো হলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন চরশাহী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সহসভাপতি সাকিব হোসেন, সেক্রেটারি আবদুর রহমান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা এমরান হোসেন ও শাহাদাত হোসেন খোকন। বিএনপির আহত কর্মীদের মধ্যে রাসেল ভুঁইয়া ও কামাল হোসেনের নাম জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় একটি বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা দলীয় প্রচারে গেলে ভোটারদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র চাওয়া নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ সময় বিএনপি নেতা রাসেল ভুঁইয়া ও জামায়াত যুব বিভাগের নেতা আবদুর রহমানের মধ্যে তর্ক হয়। একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, ভোটার আইডি কার্ড চাওয়াকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মারামারি হয়েছে। এতে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আশরাফুল রহমান হাফিজ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতা–কর্মীরা জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান বলেন, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।