June 27, 2026, 4:20 am

কুয়ালালামপুরে অভিবাসন অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৫০ বিদেশি আটক

  • Update Time : Thursday, January 15, 2026

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানে বাংলাদেশিসহ মোট ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মরিয়া চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়।

‘অপারেশন কুটিপ’ নামের এই অভিযানে কেউ ওপরতলা থেকে ধারালো দা ছুড়ে মারেন, কেউ ছাদে উঠে পড়েন, আবার কাউকে পানির ট্যাঙ্কে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, কুয়ালালামপুরের সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে পৃথক দুটি অভিযান চালানো হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর সেলায়াং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৯ জন বিদেশিকে আটক করা হয়।

সেলায়াং থেকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। আটককৃতরা নিরাপত্তাকর্মী, খাবারের দোকানের সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, মুদি দোকানের কর্মচারী ও নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

লোকমান এফেন্দি জানান, পরিদর্শনে দেখা গেছে প্রবাসীরা অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছিলেন। তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাটে পাঁচ থেকে ছয়জন গাদাগাদি করে বসবাস করতেন, যার ফলে পরিবেশ দূষণসহ নানা স্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ার, তিনজন মিয়ানমারের এবং ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

বার্নামার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ওই অবৈধ বসতিতে বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জায়গা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন এবং প্রকৃত মালিক সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। এলাকাটিতে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগও ছিল না; আশপাশের উৎস থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছিল।

লোকমান এফেন্দি বলেন, অভিবাসন বিভাগের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সতর্ক করে জানান, অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগ দেওয়া মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় মামলা করা হয়েছে। তাদের কারও কাছে বৈধ পাস বা পারমিট ছিল না, অনেকের ভিসার মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

অভিযানকালে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com