আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের রাজধানী তেহরানে সরকারের সমর্থনে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রস্থ এনগেলাব (বিপ্লব) স্কয়ারে আয়োজিত এই সমাবেশে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের স্মরণ করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমাবেশে অংশ নেয় এবং নিহতদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সরকারবিরোধী চলমান বিক্ষোভকে তেহরান বিদেশি মদদপুষ্ট ‘দাঙ্গা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আহ্বানে তেহরানের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সরকারপন্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, গত দুই সপ্তাহে ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে দমন অভিযানে শত শত বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর আলোচনার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান সংঘাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রেখেছে।
তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক সম্মেলনে আরাঘচি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে প্রয়োজনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, আলোচনা হতে হবে ন্যায্যতা, সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনকে ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে অর্থনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক, সামরিক এবং সন্ত্রাসবিরোধী—এই চার ধরনের যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।
গালিবাফ বলেন, ইরানি জাতি কখনো শত্রুকে তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে দেয়নি। তার বক্তব্যের সময় সমাবেশে অংশ নেওয়া লোকজনকে ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ ও ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন করে কোনো হামলা হলে ইরানি সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দেবে।