আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে একযোগে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশ দিয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
চ্যানেল ১২ সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির সেনাবাহিনীর জন্য চার বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই যুদ্ধপ্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির মধ্যে স্যাটেলাইটে হামলা এবং মহাকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনটি সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে ইসরায়েল সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইরানকে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানে চলমান মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ চলছে, সেখান থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে তেহরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারে।
এ কারণে ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের চলমান আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। এমনকি বিক্ষোভ সংগঠনে নিজেদের ভূমিকা থাকার দাবিও করেছে সংস্থাটি।
গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এসব বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে ইরানের ইসলামি সরকার চাপে রয়েছে। সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ইসলামি সরকারের অবসান ঘটিয়ে রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিও তুলেছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে ইরান কঠোর হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নাকি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।