ইসলামে গোঁফ ছোট রাখা ও দাড়ি বড় রাখা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত। হাদিস অনুযায়ী, দাড়ি রাখা কোনো ফ্যাশন নয়; বরং এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও পূর্ববর্তী নবী–রাসুলদের সুন্নত। অনেক আলেমের মতে, সুন্নাহসম্মত দাড়ি রাখা মুসলিম পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
হাদিসে দাড়ি মুণ্ডন বা এক মুঠের কম করে কেটে ফেলার বিষয়ে কঠোরতা দেখা যায়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন,
“দশটি কাজ মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে—গোঁফ ছোট করা ও দাড়ি বড় করা।”
—সহিহ মুসলিম
এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনায়। তিনি বলেন,
“আল্লাহর রাসুল (সা.) গোঁফ কাটতে এবং দাড়ি লম্বা রাখতে আদেশ করেছেন।”
—সহিহ মুসলিম
অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন,
“মুশরিকদের বিরোধিতা করো; দাড়ি বাড়াও এবং গোঁফ ছোট করো।”
—সহিহ বুখারি
এ ছাড়া বার্ধক্যের সঙ্গে চুল ও দাড়ি সাদা হওয়া প্রসঙ্গেও হাদিসে দিকনির্দেশনা রয়েছে। রাসুল (সা.) সাদা চুল উপড়ে ফেলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন,
“তোমরা সাদা চুল উপড়ে ফেলো না। কোনো মুসলমানের চুল ইসলামের পথে জীবন যাপন করতে গিয়ে সাদা হলে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য আলো হবে।”
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে,
“সাদা চুলের প্রতিটি চুলের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা একটি করে সওয়াব দেন এবং একটি করে গুনাহ ক্ষমা করে দেন।”
—সুনানে আবু দাউদ
সারসংক্ষেপে, হাদিসের আলোকে দাড়ি রাখা ও সাদা চুলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত, যা দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদার কারণ হতে পারে।