June 27, 2026, 8:24 am

শীতার্তদের পাশে চট্টগ্রামের মানবিক ডিসি

  • Update Time : Monday, December 29, 2025

জেলা প্রতিনিধি:

সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও গতরাতে হাড়কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছিল এবং বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছিল। বন্দরনগরীর কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে আসে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শহরের মানুষ ঘরের ভেতর কম্বল মুড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করলেও নগরীর ফুটপাত, রেলস্টেশন, ডিসি হিলের পাদদেশ কিংবা উন্মুক্ত জায়গায় থাকা ভাসমান মানুষের জন্য ছিল না এমন কোনো নিরাপদ আশ্রয়।

দিনভর নির্বাচনী ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রাম জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার। ভোরে উঠেই অপেক্ষা করছিল আরেকটি ব্যস্ত কর্মদিবস। কিন্তু শীতল রাতের নিস্তব্ধতায় তাঁর মনে ভেসে ওঠে অন্য এক চিত্র—এই শহরের অসংখ্য অসহায় মানুষ, যাদের আজ রাতেও একটি কম্বলের অভাবে ঘুম আসবে না।

ভাবনাটুকুই সিদ্ধান্তে রূপ নেয়। বাসা থেকেই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন—অবিলম্বে শীতবস্ত্র বিতরণের আয়োজন করতে হবে। নির্দেশনা পেয়ে দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এরপরই গভীর রাতে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে শীতার্ত, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও বসতবাড়িহীন ভাসমান মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত পরিচালিত হয় এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম। ডিসি হিল, কাজির দেউরি, সিআরবি, রেলস্টেশন এলাকা, শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন স্থান এবং মেহেদীবাগ এলাকায় অবস্থানরত শীতার্ত মানুষের হাতে একে একে কম্বল তুলে দেন জেলা প্রশাসক।
এক রাতেই বিতরণ করা হয় মোট ৫০০টি কম্বল।

মেহেদীবাগ আর কাজির দেউরি এলাকায় ফুটপাতে পরিবারের সঙ্গে খোলা আকাশের নিচে তীব্র শীতে কাঁপতে থাকা দুই পথশিশুকে আদর করে জড়িয়ে ধরেন ডিসি।

গভীর রাতে চোখের সামনে জেলার অভিভাবককে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করতে দেখে কিছুটা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন ভাসমান মানুষগুলো। কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন, কেউ চোখের কোণে লুকাতে পারেন না কৃতজ্ঞতার অশ্রু। শীতের রাতে কম্বলের উষ্ণতার সঙ্গে তারা যেন পেল মানবিক স্পর্শের আশ্বাস।
শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন।

এই এক রাতের মানবিক উদ্যোগ শুধু শীত নিবারণ করেনি—ভাসমান মানুষদের মনে জাগিয়ে তুলেছে বিশ্বাস, রাষ্ট্র এখনো তাদের কথা ভাবে। চট্টগ্রামের শীতল রাত যেন সেই বিশ্বাসের উষ্ণ সাক্ষী হয়ে থাকল।

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com