নিজস্ব প্রতিবেদক:
বার্ষিক ও ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ায় বছর শেষে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। শীতের আমেজে সমুদ্রসৈকত ঘিরে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে বেলাভূমি ও আশপাশের পর্যটন স্পটগুলো। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নানা বয়সী পর্যটকে লোকারণ্য সৈকত এলাকা।
সংশ্লিষ্টদের আশা, থার্টিফাস্ট নাইটের পরের সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ে পাঁচ থেকে দশ লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেন। এতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হিমেল হাওয়ায় সূর্যাস্ত উপভোগ করতে সৈকতে ভিড় বাড়ছে। একই সঙ্গে হোটেল-মোটেল জোনের সড়ক ও অলিগলিতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। পর্যটকবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, ইজিবাইক ও সিএনজির চাপে কলাতলী, লাবণী-শৈবাল সড়ক, ডলফিন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকরা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, সক্রিয় রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। পর্যটন স্পটগুলো সিসিটিভির আওতায় এনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকেই পর্যটকের চাপ বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিং প্রায় পূর্ণ। বিজয় দিবসের ছুটি, বড়দিন ও সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয়ে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার টুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম জানান, কক্সবাজার ছাড়াও ইনানী, হিমছড়ি ও সেন্টমার্টিনসহ আশপাশের সব পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় বেড়েছে। সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচলকারী সাতটি জাহাজের টিকিট ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটন জোনে ৫ শতাধিক আবাসন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে দেড় লাখ পর্যটক থাকার ব্যবস্থা আছে। বছরের শেষ ও নতুন বছরের শুরুতে প্রায় ১০ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে। এতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি চলছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটক হয়রানি রোধে বিশেষ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ পেলে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ ছাড়াও নারী পুলিশ সদস্য এবং র্যাবের টহল টিম মাঠে রয়েছে, যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে কক্সবাজার ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।