June 27, 2026, 7:15 am

নেপালে কারফিউ ভেঙে তরুণদের বিক্ষোভ, পুলিশের গুলি

  • Update Time : Tuesday, September 9, 2025

নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরও জারি রয়েছে উত্তেজনা। রাজধানী কাঠমান্ডু ও আশপাশের অঞ্চলে কারফিউ উপেক্ষা করে তরুণদের লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলিবর্ষণ করেছে, যার ফলে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কারফিউ উপেক্ষা করে নিউ বানেশ্বরসহ কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের বিরুদ্ধে জেনারেশন জেড (জেন জি) তরুণদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।

সোমবারের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে কাঠমান্ডুতে ১৭ জন এবং ইটাহারিতে ২ জন নিহত হন, আহত হন আরও ৪০০ জনের বেশি। নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ, যারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঠমান্ডু, ললিতপুর ও ভক্তপুরে জারি করা হয়েছে কঠোর কারফিউ। কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে রিং রোডের ভেতরে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলাচল ও জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে।

কারফিউ এলাকায় রয়েছে: বলকুমারী সেতু, কোঠেশ্বর, সীনামঙ্গল, গাউশালা, চাবাহিল, নারায়ণ গোপাল চৌক, গংগাবু, বালাজু, স্বয়ম্ভূ, কালিঙ্কি, বালখু ও বাগমতী সেতু। ললিতপুরে কারফিউ চলছে সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। ভক্তপুরের মাধ্যপুর ঠিমি, সূর্যবিনায়ক, চাংগুনারায়ণ ও পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের স্থানীয় প্রশাসন আইন অনুযায়ী সব ধরনের মিছিল, সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবুও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মঙ্গলবার সকালে নিউ বানেশ্বরের পার্লামেন্ট ভবনের সামনে তরুণদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা কোনও ব্যানার বা প্ল্যাকার্ড না থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেয়। একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, “গতকালের সহিংসতা সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ। আমি তরুণদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি।”

এদিকে, সোমবারের সহিংসতায় সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতারা সরকারের দমনমূলক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা মনে করছেন, তরুণদের কণ্ঠরোধ করতে গিয়ে সরকার আরও বেশি সংকটে পড়েছে।

মঙ্গলবার চন্দ্রনিগাহাপুরেও নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। জেন জি তরুণদের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ডজনখানেক ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এখনও হতাহত বা গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

চন্দ্রনিগাহাপুরে পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com