ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলে ছাত্রদলের হল কমিটি ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোকেয়া হল, কুয়েত মৈত্রী হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও মুহসীন হলসহ একাধিক হলের শতাধিক শিক্ষার্থী শুক্রবার দিবাগত রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভ শুরু হয় বিকেলে রোকেয়া হল থেকে। ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর বিকেল ৫টার দিকে হলের একাংশ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং পদ পাওয়া ৮ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।
পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা প্রভোস্ট হুসনে আরা বেগমকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ৩০ মিনিটের আল্টিমেটাম দেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও রোকেয়া হলের আবাসিক আদিবা সায়মা খান বলেন, ‘প্রভোস্ট আমাদের বলেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উপহার বা অনুপ্রবেশের মাধ্যমে হলে ছাত্ররাজনীতি আসতেই পারে। কিন্তু আমরা কোনো ধরনের গোপন বা প্রকাশ্য রাজনীতি হলে চাই না। তাই তাকে সময় বেঁধে দিয়েছি।’
তবে নির্ধারিত সময় শেষে প্রভোস্ট হুসনে আরা বেগম জানান, তিনি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ‘প্রক্টররা মিটিং করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। প্রয়োজনে আমি পদত্যাগ করব, কিন্তু ওই আট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না।’
এই বক্তব্যে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তারা হল থেকে বের হয়ে অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে রাত দেড়টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
রাত সোয়া ২টার দিকে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ চায় বলে জানান।