নিজস্ব প্রতিবেদক:
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে ধারণ করতে না পারলে তাঁর শাহাদাতবার্ষিকী বা জন্মবার্ষিকী পালন অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, জিয়াউর রহমানের জীবন থেকে শৃঙ্খলা, সততা ও দেশপ্রেম—এই তিনটি মৌলিক শিক্ষা গ্রহণ করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে।
রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্রের বিনির্মাণে মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবনের যে আদর্শ, যদি আমরা তা নিজেদের জীবনে ধারণ করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে তাঁর জন্মদিন বা শাহাদাতবার্ষিকী পালন করার কোনো অর্থ থাকে না।”
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের জীবন থেকে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে শিক্ষা নেওয়া যায়—শৃঙ্খলা, সততা এবং দেশপ্রেম। এই মূল্যবোধগুলোকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলমান রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে সফল করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনায় বাংলাদেশের ৫৫ বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে মঈন খান বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “৫৫ বছর কোনো জাতির ইতিহাসে খুব দীর্ঘ সময় নয়, আবার একেবারে কম সময়ও নয়। কাজেই বাংলাদেশ এখনও শিশু রাষ্ট্র—এমন অজুহাতে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেই লক্ষ্য অর্জনে এবার সঠিক পথে এগিয়ে যেতে হবে এবং অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে।
মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় জনগণের প্রত্যাশা ভঙ্গ হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণ আবারও জিয়াউর রহমানের ওপর আস্থা রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জিয়াউর রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, বরং সম্মুখসমরে অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন এবং বিজয়ের পর জনগণের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “মাত্র সাড়ে তিন বছরে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে যে নতুন রূপ দিয়েছিলেন, পরবর্তী কয়েক দশকেও আমরা কেন সেই অগ্রগতি ধরে রাখতে পারিনি—এটি ভাবার বিষয়।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদান স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও দেশপ্রেমের চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।