আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান চেয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-এর কাছে পাঠানো ১৪ দফা এই প্রস্তাবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দুই দেশের সব অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা নূর নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৯ দফা পরিকল্পনার পাল্টা হিসেবেই তেহরান এই ১৪ দফা প্রস্তাব তৈরি করেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমা শেষে ইরান “শূন্য-মজুদ নীতি” অনুসরণ করে ৩.৬ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুনরায় শুরু করতে পারবে। তবে ইরান তার পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ভেঙে ফেলার দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এছাড়া একটি নির্দিষ্ট সময়সূচির মাধ্যমে ইরানের জব্দকৃত অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান এবং তার মিত্রদের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকবে। বিনিময়ে ইরানও কোনও ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে না—এমন পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবের তৃতীয় ধাপে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। এর লক্ষ্য হবে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চালু রয়েছে। বর্তমানে তিন সপ্তাহের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার ওমান-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুদ্ধের আগেও ওমান একাধিকবার দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এর সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর।