আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। রোববার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, শনিবার থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সমন্বিত আক্রমণ পরিচালিত হয়েছে। অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টিরও বেশি দেশে সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলের তেল নফ শহরে অবস্থিত বিমানঘাঁটি, তেল আবিবের হাকিরিয়া এলাকায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড সদরদপ্তর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়। পাঁচ দফা আলোচনার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় তা শেষ হয় কোনো সমঝোতা ছাড়াই। ওই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংলাপের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এর পরপরই ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি শহরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয় বলে তেহরানের অভিযোগ। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করে ইরান। এতে করে অঞ্চলজুড়ে পূর্ণমাত্রার সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।