নিজস্ব প্রতিনিধি:
ন্যায্য ও নিয়মিত পদোন্নতির দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক—সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থবির থাকায় কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
কর্মকর্তারা জানান, গত ১৪ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা একটি স্মারকের নির্দেশনার ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকে নিয়মিত পদোন্নতি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ওই স্মারকে বলা হয়, সুপার নিউমারারি পদোন্নতি আত্মীকরণ বা সমন্বয় না করা পর্যন্ত কোনো নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। পরবর্তীতে ১৫ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো সুপার নিউমারারি পদোন্নতি সমন্বয় করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রতিবেদন পাঠালেও এখনো নিয়মিত পদোন্নতির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তারা বলেন, সুপার নিউমারারি পদোন্নতির সঙ্গে নিয়মিত পদোন্নতির কোনো সাংঘর্ষিক সম্পর্ক বা আইনগত বাধা নেই। দেশের অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সুপার নিউমারারি পদোন্নতি চালু থাকলেও নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখা হয় না। অথচ কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ‘সমন্বয়’-এর অজুহাতে নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখা বৈষম্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য।
মানববন্ধন থেকে কর্মকর্তারা দাবি জানান, ২০২৪ সালের পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট বছরের শূন্য পদ অনুযায়ী এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ কাট-অফ তারিখ ধরে প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব পদোন্নতি নীতিমালা অনুসারে দিতে হবে। ২০২৫ সালের কোনো নীতিমালা বা নির্দেশনার মাধ্যমে ২০২৪ সালের পদোন্নতির অধিকার হরণ করা আইনসম্মত নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর সুপার নিউমারারি পদোন্নতি তিন ধাপে আত্মীকরণ বা সমন্বয় করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নতুন অর্গানোগ্রাম কার্যকরের পর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ কাট-অফ তারিখ ধরে দ্বিতীয় দফা নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানান তারা। প্রতিটি পদোন্নতির কার্যকর তারিখ ১ জানুয়ারি থেকে নির্ধারণের দাবিও তোলা হয়।
মানববন্ধনে আরও বলা হয়, ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা–২০২৫’-এর কয়েকটি ধারা কর্মকর্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে এবং বৈষম্য সৃষ্টি করছে। এ নীতিমালা সংশোধন অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের আদলে একটি ন্যায্য, বাস্তবসম্মত ও বৈষম্যহীন পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নীতিমালাটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করার এবং কোনো অবস্থাতেই ব্যাকডেট কার্যকর না করার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে মো. মোতাহের হোসেন বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।