আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা চললেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে নীরব রয়েছে ইসরায়েল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতা কোনো নিষ্ক্রিয়তা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত কৌশল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমান পরিস্থিতিকে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
শনিবার প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত ইরান ইস্যুতে সোচ্চার থাকলেও এবার জনসমক্ষে খুব কম কথা বলছেন নেতানিয়াহু। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ বিবিসিকে বলেন, নেতানিয়াহুর এই নীরবতা থেকেই বোঝা যায়, তিনি বর্তমান সময়কে কতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। পারস্য উপসাগরে বিপুল মার্কিন সেনা উপস্থিতি এবং ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক অবস্থানকে ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা ইউনিটের সাবেক উপ-পরিচালক আসাফ কোহেনও জানান, ইসরায়েল চাইছে যুক্তরাষ্ট্রই ইরানের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিক, কারণ আন্তর্জাতিকভাবে ওয়াশিংটনের শক্তি ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে ইসরায়েলের প্রধান হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। তার আশঙ্কা, খামেনি সরকারের নেতৃত্ব বহাল থাকলে যেকোনো চুক্তি বা সীমিত হামলা ভবিষ্যতে ইসরায়েলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান শ্লোমি বিন্ডার ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইরানে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিবিসি জানায়, ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের ধারণা—ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তিত হলে দেশটির পারমাণবিক ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহসহ ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থ ও রসদ সরবরাহ ব্যাহত হবে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষক আসাফ কোহেনের মতে, ইরান বর্তমানে সামরিক ও অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের চাপের মুখে দেশটি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, অনেকের কাছেই এটি এমন একটি সময়, যা ‘এখনই নয়তো কখনোই নয়’—এই ভাবনায় দেখা হচ্ছে।
তবে বিবিসি উল্লেখ করেছে, ইসরায়েলে এখনো গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের স্মৃতি তাজা। সে সময় ইরানের ছোড়া কয়েকশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে তেল আবিবের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। ওই হামলায় ২৮ জন নিহত হন।