নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর গুলশানের একটি ভাড়া বাসা থেকে সাদিয়া রহমান মিম (২৭) নামে এক তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মিম একটি বারে ড্যান্সার হিসেবে কাজ করতেন এবং পাশাপাশি নিজস্ব পার্লার পরিচালনা করতেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার রুমমেট নুসরাতকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে গুলশানের কালাচাঁদপুর পশ্চিমপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মারুফ আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের গলা কাটা অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়। মুখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, নিহত মিমের আগে দুবার বিয়ে হয়েছিল এবং উভয় স্বামীর সঙ্গেই তার বিচ্ছেদ হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন শাহিদা বাদী হয়ে গুলশান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং–৩৭) দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মিম কালাচাঁদপুরের পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে রুমমেট নুসরাতের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন এবং নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৬ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিমের সঙ্গে পরিবারের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ১৭ জানুয়ারি রাতে বাসায় গিয়ে তালা ভাঙার পর ভেতরে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফনের জন্য নিহতের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নেওয়া হবে। নিহত মিম টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মৃত শহীদ আলীর মেয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।