নিজস্ব প্রতিবেদক:
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশ ভালো থাকতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার অস্তিত্ব ও আদর্শকে ধারণ করতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ‘নাগরিক সমাজের’ উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বলতেন—‘বেগম জিয়া ভালো থাকলে ভালো থাকবে বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, এখন বিশ্বাস করেন বেগম জিয়া ভালো আছেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি ভালো আছে বা ভালো থাকবে? বাংলাদেশের মঙ্গল নিশ্চিত করতে হলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন বন্দি ছিলেন, তখন তার পক্ষে কথা বলার মানুষ পাওয়া কঠিন ছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার পক্ষে কথা বলার সুযোগ হলেও সাহস করে এগিয়ে আসার লোকের সংখ্যা ছিল খুবই কম।
আইন উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে বিচার হয়েছে তা ছিল উদ্ভট ও নজিরবিহীন। বিচার চলাকালে তিনি বিস্মিত হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি মেরে খেয়েছি এতিমের টাকা?’ কিন্তু সেই বক্তব্যকেই বিচারক লিখেছিলেন—তিনি নিজেই অপরাধ স্বীকার করেছেন। একজন আইনের ছাত্র হিসেবে তিনি বলেন, এত জঘন্য বিচার তিনি জীবনে দেখেননি।
তিনি আরও বলেন, ওই বিচারের প্রতিবাদে বিবৃতি দিতে গিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, বহু মানুষকে ফোন করেছেন। তবে হাইকোর্টে কী প্রতিক্রিয়া হবে—এই ভয়ে চারজনের বেশি রাজি হননি। ফলে বিবৃতিটি পত্রিকায় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
আসিফ নজরুল বলেন, বেগম জিয়া যখন মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন, তখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে বহু মানুষকে অনুনয়-বিনয় করতে হয়েছে। অনেকের ইচ্ছা থাকলেও সাহসের অভাবে কেউ এগিয়ে আসেননি।
বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি ছিলেন সৎ, পরমতসহিষ্ণু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আত্মত্যাগী নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ ছিলেন তিনি। তার মধ্যে গভীর দেশপ্রেম ও শালীনতার এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল।
তিনি বলেন, আজ মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা যাচ্ছে—এটি আনন্দের। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশের মানুষ আজ স্বাধীনভাবে ভালোবাসা ও ঘৃণা—দুটিই প্রকাশ করতে পারছে। এ কারণেই একজন নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আর আরেকজনের ঠাঁই হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে।
শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। এতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।