June 27, 2026, 9:40 am

ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিকল্প গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন ট্রাম্প

  • Update Time : Sunday, January 11, 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে কীভাবে হামলা চালানো যেতে পারে—সে বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্টের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের কঠোর পদক্ষেপের জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তিনি সক্রিয়ভাবে ভাবছেন।

কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবিত বিকল্পগুলোর মধ্যে তেহরানের সামরিক স্থাপনা নয়—এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ইরান এমন এক স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি। যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বিস্তৃত হয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। অনেক বিক্ষোভকারী কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে মৌলিক পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত বিক্ষোভে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বলেন, ব্যাপক বিক্ষোভ সত্ত্বেও সরকার পিছু হটবে না।

ট্রাম্প একাধিকবার সতর্ক করেছেন, বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহৃত হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান বড় ধরনের সমস্যার মুখে রয়েছে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে আঘাত করবে, যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে—তবে তা স্থল অভিযান নয়।

এদিকে শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আলোচনায় সিরিয়া ও গাজা পরিস্থিতিও উঠে আসে। রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে।

এর আগে, ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। এরপর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, হুমকি বাস্তবায়নে ট্রাম্প পিছপা হন না।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান ইস্যুতে যে সামরিক বিকল্পগুলো বিবেচনায় রয়েছে, তার কিছু সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর সেই অংশকে লক্ষ্য করে, যারা বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা চালাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে সতর্কতা রয়েছে—যাতে হামলার ফলে ইরানের জনগণ সরকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে না পড়ে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ঝুঁকিতে না পড়ে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরান, ভেনেজুয়েলা ছাড়াও সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও নাইজেরিয়ায় সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে, ২০২০ সালে তার প্রথম মেয়াদে ইরাকের বাগদাদে ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্স প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহত হন।

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com