আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতদিন ভারতে থাকবেন, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই তাঁর নিজের—এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ব্যক্তিগত বিষয়, এবং যে পরিস্থিতিতে তিনি দেশটিতে এসেছেন, তা তাঁর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করবে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) নয়াদিল্লিতে এইচটিএ লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির প্রধান নির্বাহী ও প্রধান সম্পাদক রাহুল কনওয়ালের সঙ্গে আলাপচারিতায় জয়শঙ্করের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়—শেখ হাসিনা কি ‘যতদিন ইচ্ছা’ ভারতে থাকতে পারবেন?
জবাবে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ অন্য প্রসঙ্গ। তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন, আর সেই পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে সামনে কী হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের চাপ ও সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। প্রায় দেড় হাজার প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষের আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। সম্প্রতি ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আন্দোলন দমনে তাঁর সরকারের ‘অমানবিক দমননীতি’র অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠলে জয়শঙ্কর বলেন, প্রতিবেশী দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে “বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া” অপরিহার্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বের অভিযোগ ছিল অতীতের নির্বাচনগুলো নিয়ে। “নির্বাচনে সমস্যা থাকলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।”
জয়শঙ্কর আরও বলেন, ভারত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে চায় বাংলাদেশে জনগণের ইচ্ছা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিফলিত হোক।
“যে-ই ক্ষমতায় আসুক, আমি বিশ্বাস করি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ককে তারা ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখবে এবং সম্পর্ক আরও উন্নত হবে,” মন্তব্য করেন ভারতের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।