বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। ৮১০টি বুথে একযোগে ভোটগ্রহণ চলমান রয়েছে।
সকালে উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সকাল ৬টা থেকেই ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন অনেকেই। ভোট দিতে পেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে প্রবল উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস।
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক বলেন, “ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। উত্তেজনায় রাতে ঘুমাতে পারিনি।”
ভিপি পদপ্রার্থী ও ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম আবির সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। তিনি নিজেও ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
আবির সাংবাদিকদের বলেন, “গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের এই সুযোগ শিক্ষার্থীদের কাজে লাগাতে হবে। সবাই যেন কেন্দ্রে এসে ভোট দেন, আমি সেই আহ্বান জানাচ্ছি।”
ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ৬২ জন নারী। ভিপি পদে ৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন নারী। জিএস পদে প্রার্থী ১৯ জন এবং এজিএস পদে ২৫ জন। সদস্যপদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২১৭ জন, যাদের মধ্যে ২৩ জন নারী।
তবে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও পরিবহন সম্পাদক পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই। জিএস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে একজন করে নারী প্রার্থী রয়েছেন। কমন রুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি নারী প্রার্থী, ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই নারী।
নির্বাচনে ব্যালট পেপার রাখা হয়েছে পাঁচ পৃষ্ঠার, আর হল সংসদের ব্যালট এক পৃষ্ঠার। ভোটাররা ওএমআর শিটে ভোট দিচ্ছেন।
একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল সংসদের নির্বাচনও আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি হলে ১৩টি পদে মোট ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন ভোটারকে ডাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৪১টি ভোট দিতে হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২০ হাজার ৮৭১ জন এবং নারী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন। সবচেয়ে বেশি পুরুষ ভোটার জগন্নাথ হলে (২,২২২ জন) এবং নারী ভোটার রোকেয়া হলে (৫,৬৪১ জন)।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, একজন ভোটারকে ভোট দিতে গড়ে ১০ মিনিট সময় লাগলেও সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।