জেলা প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। রেকর্ড বৃষ্টিপাতে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের স্বপ্নের বোরোধান, ফলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক।
কিশোরগঞ্জ জেলায় গত মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আখতার ফারুক জানান, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
এই অতিবৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো দ্রুত পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৯০০ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমি ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে এবং প্রতিদিনই এই পরিমাণ বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাওরের কৃষকরা। ধান কাটার মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে এমন বৃষ্টিতে কাটা ধান মাঠেই ভিজে যাচ্ছে, আবার যেসব ধান কাটা হয়েছে সেগুলোও শুকাতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে উৎপাদিত ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কয়েক দিনের এই অতি বৃষ্টিপাত তাদের বছরের পর বছর পরিশ্রমকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অনেকেই শেষ মুহূর্তে ধান ঘরে তুলতে না পেরে হতাশায় ভুগছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা বা অতিবৃষ্টির ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। অন্যথায় প্রতিবছরই কৃষকদের এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
সব মিলিয়ে, টানা বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষকদের স্বপ্ন এখন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।