ক্রীড়া প্রতিবেদক:
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে পথচলা শুরু করলেও পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। ফলে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচটি রূপ নেয় অঘোষিত ফাইনালে—আর সেই লড়াইয়ে দাপট দেখিয়েই ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় টাইগাররা।
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুটা ভালো ছিল না স্বাগতিকদের। দ্বিতীয় বলেই সাইফ হাসান শূন্য রানে ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় দল। এরপর দ্রুত তানজিদ হাসান তামিমও আউট হলে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৯ রানেই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এই বিপর্যয়ের মধ্যে হাল ধরার চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। তবে সৌম্য ১৮ রান করে ফিরে গেলে আবারও চাপে পড়ে দল। এরপর লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন শান্ত। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৬০ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে প্রাণ সঞ্চার করে।
লিটন দাস ৭৬ রান করে বিদায় নিলেও অপর প্রান্তে অবিচল ছিলেন শান্ত। দারুণ ব্যাটিংয়ে তুলে নেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ১১৯ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ১০৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ দিকে তাওহীদ হৃদয় ৩৩ রান যোগ করলে লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই হেনরি নিকোলসকে আউট করে দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে কিউইরা।
উইল ইয়াং ১৯ রান করে বিদায় নেন, অধিনায়ক টম ল্যাথামও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। মাঝের দিকে নিক কেলি (৫৯) ও মোহাম্মদ আব্বাস (২৫) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ডিন ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের লড়াকু ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৩০ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। তার সঙ্গে শরিফুল ইসলাম ও অন্য বোলাররাও কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
শেষ পর্যন্ত ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ফলে ৫৫ রানের জয় নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।
ব্যাটে শান্তর সেঞ্চুরি আর বলে মুস্তাফিজের ফাইফারে দারুণ এক দলীয় পারফরম্যান্সেই সিরিজ জয়ের হাসি হাসল টাইগাররা।