নিজস্ব প্রতিবেদক:
কোচিং সেন্টার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশে অবাধে গড়ে ওঠা কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকার ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেবে এবং শেষ পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ বন্ধ করা হবে।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কুমিল্লা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা, বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে-বিদেশে প্রায় সব ক্ষেত্রেই লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোচিং সেন্টারগুলো অনেকটা অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। “ব্যাঙের ছাতার মতো কোচিং সেন্টার গড়ে উঠছে—এগুলো কি আইনের আওতায় আসবে না? অবশ্যই আসবে, তবে সবকিছু ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে বিদ্যালয়েই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। “কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে পিছিয়ে আছে, সেটি নির্ধারণ করে শিক্ষকদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। এভাবে কোচিং নির্ভরতা কমিয়ে একপর্যায়ে কোচিং সেন্টার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে,”—যোগ করেন মন্ত্রী।
পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধের বিষয়েও কঠোর বার্তা দেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময় নকলের প্রবণতা বেড়েছে এবং এতে কিছু শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতাও ছিল। তবে বর্তমান সরকার নকলমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সালে আমরা নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলাম। পরে সেই ধারাবাহিকতা কিছুটা শিথিল হয়েছিল। এবার আমরা আবারও স্পষ্টভাবে বলতে চাই—নকল চলবে না।”
শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের তুলনায় ভিন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতে যারা কাজ করছেন, তারা জাতি গঠনে অবদান রাখছেন।
সবশেষে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান, সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে এবং একটি সুশৃঙ্খল, নকলমুক্ত ও কোচিং নির্ভরতা-বিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে।