নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ-এর উত্তর গেটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় অনুষ্ঠিত ১১ দলের লিয়াঁজো কমিটির বৈঠক শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর সদস্যসচিব আখতার হোসেন, খেলাফত মজলিস-এর মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-এর মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টি-এর চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান)সহ বিভিন্ন দলের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আজাদ বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সরকার সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে এবং গণভোট ইস্যুতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে শুধু সংশোধনী আনতে চায়, যা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি সংসদের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়ে সমাধান না দেয়, তবে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে।
ঘোষণা অনুযায়ী, বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে জনমত গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নেতারা জানান, এরপরও দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, অতীতের সংবিধান সংশোধনীগুলো দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথ তৈরি করেছে। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত সংস্কারের জন্য গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া জরুরি এবং এ লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা উচিত।
বৈঠকে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার সংকট অস্বীকার করলেও বাস্তবে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী জোটগুলোর কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। শনিবারের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।