আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সৌদি আরব-এ অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায়। দেশটির প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, এতে অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal এক প্রতিবেদনে জানায়, শুক্রবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি হামলায় ঘাঁটির বেশ কয়েকটি রি-ফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা সামরিক কার্যক্রমে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সৌদি আরবে ২ হাজার ৩২১ জন মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা সৌদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। রাজধানী রিয়াদের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন সেনারা প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি এবং থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম পরিচালনা করে।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বিরোধ চলছে। এই প্রেক্ষাপটে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ২১ দিনব্যাপী সংলাপ অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান চালায়।
এই যৌথ অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এর পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরব ছাড়াও কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান-এ অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোও হামলার আওতায় রয়েছে।
এর আগে ১ মার্চ একই ঘাঁটিতে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় আহত মার্কিন সেনাদের একজন, সার্জেন্ট বেঞ্জামিন এন. পেনিংটন (২৬), কয়েক দিন আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এতে করে সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ছে।
CENTCOM-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাস ধরে চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০০-র বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুতই বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।