নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু এবং ৪ জন পুরুষ রয়েছেন। ইতোমধ্যে ২১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, আর বাকি দুজনের মরদেহ স্বজনরা এলে হস্তান্তর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান। জেলা প্রশাসন জানায়, উদ্ধার কার্যক্রম শেষে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, নিহতদের অধিকাংশই রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, ঢাকা ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংশ্লিষ্ট এলাকায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারানোর ঘটনাও রয়েছে কয়েকটি পরিবারে, যা পরিস্থিতিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাটি ঘটে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায়। বাসটি নদীতে তলিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক ইউনিট অংশ নেয়। রাতভর অভিযান চালিয়ে একে একে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই দুর্ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহন ওঠানামার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও নিয়ন্ত্রণহীনতা এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।