আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আল-খার্জ শহরের একটি আবাসিক ভবনে সামরিক প্রক্ষেপকের আঘাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি এবং অন্যজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে আজ সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও সৌদি গ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-খার্জের একটি আবাসিক কমপাউন্ডে হঠাৎ করে একটি সামরিক প্রক্ষেপক আঘাত হানে। এতে ভবনটির একটি অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই দুইজন প্রাণ হারান। নিহতরা একটি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক সুরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র জানান, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবাদানকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম শুরু করে। সরকার অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তিনি বলেন, বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
ঘটনার বিষয়ে বেসামরিক সুরক্ষা দপ্তর তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ করেনি। সেখানে ‘ক্ষেপণাস্ত্র’ বা ‘মিসাইল’ শব্দের পরিবর্তে ‘সামরিক প্রক্ষেপক’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এর আগে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা সৌদি আরবের আল-খার্জসহ বিভিন্ন শহরের রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।
আল-খার্জ শহরটি সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এই এলাকাতেই যুবরাজ সুলতান বিমানঘাঁটি অবস্থিত, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হওয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওই বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছে তেহরান।
এদিকে আরব লিগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত ইরানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আরব লিগের সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে বেপরোয়া হামলা চালানো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।