আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহত তারেক চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইদুল হকের ছেলে। এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার মুহাররাক দ্বীপ-এর সালমান শিল্পাঞ্চল এলাকায় আকাশে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হলে তার টুকরো নিচে পড়ে। সেই ধ্বংসাবশেষ তারেকের ওপর আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
একই ঘটনায় আহত দুই বাংলাদেশিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে এবং শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। দূতাবাস নিহতের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাহরাইনে অবস্থানরত অধিকাংশ বাংলাদেশি এখন পর্যন্ত নিরাপদ থাকলেও হামলার ধরন অনিশ্চিত। ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে আসছে না, হঠাৎ আঘাত হানছে—ফলে আগে থেকে সতর্ক হওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। প্রবাসীরা বর্তমানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘরে অবস্থান করছেন। এখনো দূতাবাসে বড় ধরনের জরুরি সহায়তার আবেদন জমা পড়েনি।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশেও। গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত তিনজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ছিলেন বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। বাকি দুজন পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর আরমান উল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, মিশন আমিরাত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।
এছাড়া গত রোববার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর কাছে ড্রোন হামলায় আরও চার বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার প্রবাসী কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।