জেলা প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নে বিয়ের অনুষ্ঠানে চাঁদার টাকা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রায়েরকান্দি গ্রামের নমপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি বিয়ে বাড়িতে এ হামলা হয়। এতে বরের বাবা, ভাই ও জেঠাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন—ত্রিনাথ বিশ্বাস (৩২), বাবুলাল বিশ্বাস (৬০) ও বৃজন রানী (৪৫)। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন।
স্থানীয়রা জানান, রায়েরকান্দি গ্রামের জীবন চন্দ্র দাসের বাড়িতে বাবুলাল বিশ্বাসের ছেলে সেম্বু নাথের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় পাশের এলাকার কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য অনুষ্ঠানে এসে প্রথমে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে তারা ৩০ হাজার টাকায় নেমে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজকরা তিন হাজার টাকা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হয়নি হামলাকারীরা।
একপর্যায়ে তারা বরের বাবা ও ভাইকে মারধর করে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করে এবং আশপাশের ঘরবাড়িতেও হামলা চালায়। এ সময় ত্রিনাথ বিশ্বাসের গলার স্বর্ণের চেইন এবং তার ছোট ভাইয়ের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত ত্রিনাথ বিশ্বাস বলেন, “আমরা প্রবাসে থাকি। ভাইয়ের বিয়েতে দেশে এসেছি। রাতে অনুষ্ঠান চলাকালে আমরা ক্যারাম খেলছিলাম। হঠাৎ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এসে হামলা চালায়। আমার মাথা ফেটে গেছে, গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রঘুনাথ বিশ্বাস ও জীবনকৃষ্ণ সরকার বলেন, বিয়েবাড়িতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বাগানবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সেলিম মোল্লা জানান, ঘটনার সময় তারা তারাবির নামাজে ছিলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।