নিজস্ব প্রতিবেদক:
রমজানের শুরুতে নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের চাপ কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ইফতারসংশ্লিষ্ট পণ্য লেবু ও শসার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে। তবে বিভিন্ন ধরনের বেগুন এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর বাজারগুলোতে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, যা রমজানের শুরুতে ছিল ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। একইভাবে রোজার শুরুতে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছিল যে শসার দাম, তা এখন কমে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে।
বাজারে কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দামও। বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে, যা রমজানের শুরুতে ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। পেঁয়াজের দামও কমে এসেছে—প্রথম রোজায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন মিলছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
সবজির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে আলু—প্রতিকেজি ২০ টাকা। কোথাও কোথাও ভ্যানগাড়িতে ৬ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। করলা কেজি ১০০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৮০ টাকা ও ধুন্দুল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, শিম ৬০-৮০ টাকা এবং শালগম ৪০-৫০ টাকায় মিলছে। মানভেদে ফুলকপি প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা এবং লাউ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা প্রতি আঁটি ১০ টাকা, লালশাক ১০ টাকা, পুঁইশাক ২০-৩০ টাকা এবং ডাঁটাশাক, কলমি শাক ও পালংশাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। লাউশাকের আঁটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
তবে প্রায় সব পণ্যের দাম কমলেও বেগুনের বাজার এখনো চড়া। রোজার শুরুর তুলনায় কিছুটা কমলেও বিভিন্ন জাতের বেগুন এখনো শতক ছাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে। কালো লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি এবং চিকন কালো লম্বা বেগুন ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতে এসব বেগুনের দাম ১৫০ টাকা ছাড়িয়েছিল।
বিক্রেতারা জানান, রমজানে ইফতারির অন্যতম জনপ্রিয় আইটেম বেগুনি তৈরির জন্য বেগুনের চাহিদা বেড়ে যায়। বিশেষ করে চিকন বেগুনের চাহিদা বেশি থাকায় এর দাম তুলনামূলক বেশি। তাদের মতে, সরবরাহ বাড়লে আগামী সপ্তাহে বেগুনের দামও কিছুটা কমতে পারে।
সব মিলিয়ে রমজানের শুরুর দামের চাপ কাটিয়ে বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও বেগুনের উচ্চমূল্য এখনো ভোক্তাদের ভোগাচ্ছে।