June 27, 2026, 6:07 am

ইরানে ট্রাম্প কী চান?

  • Update Time : Wednesday, February 25, 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো স্পষ্ট নয়। প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানে হামলার হুমকি দিলেও দীর্ঘমেয়াদি না স্বল্পমেয়াদি সংঘাত—কোন পথে তিনি এগোতে চান, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের কথাও বলছেন, তবে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

সামরিক বিকল্পের ইঙ্গিত

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামনে একাধিক সামরিক বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সীমিত হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংসের প্রচেষ্টা, এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-কে লক্ষ্য করে সরাসরি হামলার সম্ভাবনাও আলোচনায় আছে। যদিও এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প বহুবার বলেছেন, তিনি এমন একটি চুক্তি চান যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাস এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে তেহরান এসব শর্ত মানতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

কূটনৈতিক চেষ্টা ও অচলাবস্থা

ওমান ও সুইজারল্যান্ডে দুই দফা পরোক্ষ আলোচনা হলেও অবস্থান কাছাকাছি আসেনি। আবারও সুইজারল্যান্ডে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির পরও ইরান ‘আত্মসমর্পণ’ না করায় ওয়াশিংটন বিস্মিত।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো সীমিত কিন্তু উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে—যা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য নৌ ও বিমান শক্তি মোতায়েন রয়েছে। বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও ডেস্ট্রয়ার অঞ্চলে অবস্থান করছে। এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী USS Gerald R. Ford ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে। এসব রণতরীতে থাকা যুদ্ধবিমান ও হাজারো সেনা সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতিতে রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক উপস্থিতি ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তুতেও পরিণত হতে পারে। ইরান ইতোমধ্যে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

শাসন পরিবর্তন নাকি কৌশলগত চাপ?

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে শাসন পরিবর্তন হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ দেশকে নতুন সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। সাবেক কূটনীতিক রিচার্ড হাস সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বলও হতে পারে, আবার সংঘাতের ফলে আরও শক্তিশালীও হয়ে উঠতে পারে—ফলে ফলাফল অনিশ্চিত।

আঞ্চলিক উদ্বেগ

উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্য হতে পারে তারাই। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষক মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, ইরান ভেনেজুয়েলার মতো এককেন্দ্রিক নয়; সেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো বহুমুখী। ফলে শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে যেতে পারে।

অনিশ্চিত চূড়ান্ত লক্ষ্য

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল এখনো দ্বিমুখী—একদিকে কূটনৈতিক চুক্তির আহ্বান, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি। সীমিত হামলা, কৌশলগত চাপ, নাকি শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা—কোনটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত পথ, তা নির্ভর করছে আসন্ন দিনগুলোর কূটনৈতিক অগ্রগতি ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার ওপর। তবে যেকোনো পদক্ষেপই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com