আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, বাহরাইন, ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে কাতারের আল উবেইদ বিমানঘাঁটি অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালের জুনে ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরুর পর এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।
অন্যদিকে বাহরাইনে অবস্থিত ঘাঁটিটি ব্যবহার করে মার্কিন নৌবাহিনীর United States Fifth Fleet, যা পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় মার্কিন সামরিক তৎপরতার কেন্দ্র।
তবে কাতার ও বাহরাইন ছাড়া বাকি ছয় দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে এখনো সেনা প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
এই ঘাঁটিগুলোর সামগ্রিক তদারকির দায়িত্বে রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম। কেবল কাতার ও বাহরাইন থেকে সেনা সরানোর কারণ জানতে চাইলে সেন্টকম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
সম্প্রতি জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস-কে পাঠানো এক চিঠিতে সতর্ক করেন—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এই চিঠির পরপরই কাতার ও বাহরাইনের ঘাঁটি থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হতে পারে।