ক্রীড়া ডেস্ক:
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ফুটবল অবকাঠামো পুনর্গঠনে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA। এ উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে আয়োজিত “বোর্ড অব পিস”-এর প্রথম বৈঠকে এ ঘোষণা আসে। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গঠিত এই বোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা অংশ নেন।
কী থাকছে পরিকল্পনায়?
ফিফা সভাপতি Gianni Infantino বৈঠকে উপস্থিত থেকে জানান, গাজায় ফুটবলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—
একটি আধুনিক ফুটবল একাডেমি স্থাপন, ২০ হাজার দর্শকধারণক্ষম নতুন জাতীয় স্টেডিয়াম নির্মাণ, বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্রশিক্ষণ মাঠ তৈরি, স্থানীয় তরুণদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
ট্রাম্প বলেন, গাজায় ফুটবলভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে অর্থ সংগ্রহে ফিফা সহায়তা করবে। তিনি জানান, বিশ্বের শীর্ষ ফুটবল তারকারা ভবিষ্যতে গাজা সফর করতে পারেন—যা আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে।
তবে ফিফার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নির্দিষ্ট ৭৫ মিলিয়ন ডলারের অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নেতা, উন্নয়ন সংস্থা ও অংশীদারদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
ফিফা এ উদ্যোগকে “ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব” হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, যুদ্ধোত্তর অঞ্চলে সামাজিক পুনর্গঠন ও যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ফুটবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস সংঘাত প্রায় দুই বছর ধরে চলার পর গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় এ সমঝোতা সম্ভব হয়। দীর্ঘ সংঘাতে গাজার বহু ক্রীড়া স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রীড়া অবকাঠামো পুনর্গঠন কেবল খেলাধুলার উন্নয়ন নয়, বরং সামাজিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের সহিংসতা থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।