নিজস্ব প্রতিবেদক:
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে দেশ। এর পরপরই দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমান–কে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ নেতারা। অভিনন্দনবার্তায় তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
অ্যান্থনি আলবানিজ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে মূল্যবান অংশীদারত্ব রয়েছে। একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়া। একইভাবে নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি তারেক রহমানকে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এক বার্তায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। তার মুখপাত্রের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং আশা প্রকাশ করা হয়, নবনির্বাচিত সরকার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসরে শান্তি ও অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং অভিনন্দনবার্তায় বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে সমন্বিত কৌশলগত সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫১ বছরের ধারাবাহিকতায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা ও বিভিন্ন খাতে বিনিময় বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এদিকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি–এর বাংলাদেশে আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার শপথ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করাকে সম্মানের বলে উল্লেখ করেন। তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন এবং উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
বহির্বিশ্বের এসব অভিনন্দনবার্তা নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা ও সহযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।