নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাটে দেখা গেছে ঈদের সময়ের মতো জনস্রোত। ভোট দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে শত কষ্ট উপেক্ষা করে পরিবার নিয়ে গ্রামের পথে ছুটছেন নগরবাসী। অনেকের লক্ষ্য একটাই—জীবনে প্রথমবার নিজের ভোট নিজে দেওয়া।
সন্ধ্যায় সদরঘাটে দাঁড়িয়ে কথা হয় সোহেল আহমেদের সঙ্গে। পটুয়াখালী যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই তরুণ বলেন, “ঈদের চেয়েও বেশি ভিড় মনে হচ্ছে। সকাল থেকে সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ীতে দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ির টিকিট পাইনি। শেষে লঞ্চে উঠলাম। জীবনে কখনো ভোট দিতে পারিনি—এবার যত কষ্টই হোক, বাড়ি গিয়ে ভোট দেবো।”
মোহাম্মদপুরে সবজি বিক্রি করা সোহেল স্ত্রী ও মাকে নিয়ে সকাল ৯টায় রওনা হলেও সড়কপথে গাড়ির সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সারাদিন ভোগান্তির শিকার হন। তিনি জানান, ২০১১ সালে ভোটার হলেও ২০১৪ সালে ভোট দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। এরপর আর ভোট দিতে যাননি। এবার তার বিশ্বাস, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবেন।
সদরঘাটেই কথা হয় লাইলি আক্তারের সঙ্গে। বরিশালগামী এই তরুণী জানান, তিনিও জীবনে প্রথমবার ভোট দেবেন। “অফিস থেকে চার দিনের ছুটি পেয়েছি। যানজটের কথা ভেবে দুপুরেই বের হয়েছি। মিরপুর থেকে সদরঘাট আসতেই চার ঘণ্টা লেগেছে। কষ্ট হলেও প্রথম ভোট দেওয়ার আনন্দ সবকিছু ভুলিয়ে দিচ্ছে,” বলেন তিনি।
ভোলা যাওয়ার পথে পরিবার নিয়ে সদরঘাটে এসেছেন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত রাজিব আহসান। তিনি বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সেই আবেগ থেকেই এবার নির্বাচন যেন ভোটের উৎসবে পরিণত হয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষগুলো কেবল ভোট দেওয়ার জন্য গ্রামে যাচ্ছে। মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তি চায়।”
ভোটকে কেন্দ্র করে যাত্রীচাপ বাড়ায় খুশি সদরঘাট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। ফল বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, “গত কয়েক দিন ধরেই ঈদের মতো ভিড়। আজ যে ভিড়, তা ঈদের সময় ছাড়া দেখা যায় না। আমাদের বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।”
এর আগে দুপুরের পর পুরান ঢাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে সদরঘাটে যাত্রীর চাপ আরও বাড়তে থাকে।
যাত্রী চাপ সামাল দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) মোবারক হোসেন বলেন, “সাধারণ দিনের তুলনায় আজ দ্বিগুণ লঞ্চ চালানো হচ্ছে। বরিশাল রুটে যেখানে দুইটি লঞ্চ যায়, সেখানে আজ সাতটি, বেতুয়ায় ছয়টি লঞ্চ দেওয়া হয়েছে। সব রুটেই স্পেশাল লঞ্চ রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে প্রতিটি লঞ্চে বড় করে ভাড়ার চার্ট টানানো হয়েছে। কেউ চাইলে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবে না।
ভোটের আগে রাজধানী ছাড়ার এই জনস্রোত দেখাচ্ছে—দীর্ঘ অপেক্ষার পর মানুষ আবারও নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বপ্নে ঘরে ফিরছে।