ক্রীড়া প্রতিবেদক:
কলকাতায় লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় চরম বিশৃঙ্খলায়। যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাত্র কয়েক মিনিট মাঠে থাকার পরই স্টেডিয়াম ছাড়েন আর্জেন্টাইন তারকা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর চালান সমর্থকরা।
শুক্রবার মধ্যরাতে ভারতে পৌঁছান লিওনেল মেসি। কলকাতার হায়াট রিজেন্সিতে অবস্থান শেষে শনিবার সকাল ১১টা থেকে তাকে ঘিরে নানা কর্মসূচি শুরু হয়। সফরের অংশ হিসেবে মোহনবাগান অল স্টার্স ও ডায়মন্ড হার্বার্স অল স্টার্সের প্রদর্শনী ম্যাচের আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছান মেসি। তার সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পল।
এর আগে সকালে বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মেসি। পরে ভার্চুয়ালি নিজের ৭০ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য উন্মোচন করেন তিনি। তবে এসব আয়োজন সাধারণ দর্শকদের জন্য সরাসরি উপভোগের সুযোগ ছিল সীমিত।
যুব ভারতীতে পৌঁছানোর পরপরই মেসিকে ঘিরে ধরে প্রায় ৭০-৮০ জনের একটি দল, যাদের বেশিরভাগই অতিথি ও আয়োজক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মাঠে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার। গ্যালারি থেকে দর্শকরা মেসিকে দেখতে পাননি। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনেও তার উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখানো হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্ত মাইকে ঘোষণা দেন। তবুও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত সকাল ১১টা ৫২ মিনিটে মেসিকে দ্রুত মাঠ থেকে বের করে নেওয়া হয়।
মেসিকে মাঠে সরাসরি দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দর্শকরা। প্রায় ১৫ হাজার রুপি মূল্যের টিকিট কেটে আসা অনেক ফুটবলপ্রেমী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা হোর্ডিং ভাঙচুর করা হয়, চেয়ার ছুড়ে মারা হয় মাঠের ভেতরে। একপর্যায়ে ফেন্সিং ভেঙে সমর্থকরা মাঠে ঢুকে পড়েন।
পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জের মাধ্যমে দর্শকদের গ্যালারিতে ফেরানোর চেষ্টা করে। তবে কিছু সময় পর আবারও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভক্তরা। অনেকেই আয়োজনকে ‘চরম অব্যবস্থাপনা’ ও ‘ভক্তদের আবেগের সঙ্গে প্রতারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আয়োজনের শুরুতেই এমন বিতর্ক তৈরি হওয়ায়, মেসির সফরের বাকি দুই দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—সেদিকেই এখন নজর সবার। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর নয়াদিল্লি সফর শেষে সন্ধ্যায় ভারত ছাড়বেন মেসি।