নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইস্রাফিল ফরায়েজী জানান, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। পরে তাকে সিপিআর দেওয়া হয়। বর্তমানে রক্তচাপ কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তার মাথার ভেতরে গুলি রয়েছে এবং কানের পাশ দিয়ে গুলি প্রবেশ করেছে।
ওসমান হাদির ফেসবুক পেজ থেকে তার জন্য ‘বি’ নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। তবে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর তারা শুনেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর জানানো হবে।
ওসমান হাদিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মিসবাহ জানান, জুমার নামাজ শেষে মতিঝিলের বিজয়নগর কালভার্ট এলাকা দিয়ে রিকশায় যাওয়ার সময় দুটি মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি তার বাম কানের নিচে লাগে। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে রিকশায় করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন।
মিসবাহ আরও জানান, চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে ওসমান হাদি অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন। ১৪ নভেম্বর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, তাকে হত্যা, তার বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তিনি লিখেছিলেন, গত কয়েক ঘণ্টায় বিদেশি নম্বর থেকে একাধিক কল ও বার্তার মাধ্যমে তাকে জানানো হয়েছে যে, তিনি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছেন এবং তার পরিবারের সদস্যদেরও টার্গেট করা হয়েছে।